সংবাদ শিরোনাম:
কুলিক নদীর তীরে নবজাতকের মরদেহ, কুকুরের মুখ থেকে উদ্ধার পীরগঞ্জে এমপিও জালিয়াতির অভিযোগ সহকারী শিক্ষকই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিরামপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত,প্রবীণদের সম্মানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা ‎বিরামপুরে “Smart Union” বাস্তবায়নে ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ‎ এনজিওর কিস্তি আর দিনমজুর বাবার সংগ্রাম পেরিয়ে জজ হলেন গোমস্তাপুরের কাজল পাঁড়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ নিয়ামতপুরে কারাম উৎসব ২০২৬ অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ী পল্লীতে ট্রান্সফরমা চোর কর্তৃক প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ফুলবাড়ী (২৯) বিজিবি ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী কেক কেটে পালিত হয় ফুলবাড়ীতে সড়ক পাকা করণসহ বিভিন্ন সমস্যা নিরসনের দাবি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের
বাংলাদেশ সাঁওতাল আদিবাসীদের সমাজ অবকাঠামো বারো গোত্রের তালিকা ও গাড় সমূহ, মাসের নাম, দিনের নাম ও বিশেষ পার্বণ সমূহের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

বাংলাদেশ সাঁওতাল আদিবাসীদের সমাজ অবকাঠামো বারো গোত্রের তালিকা ও গাড় সমূহ, মাসের নাম, দিনের নাম ও বিশেষ পার্বণ সমূহের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

✍🏻 মিলন মার্ডী

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র।
এ দেশের মোট আয়তন (১৪৮৪৬০ )বর্গ কিলোমিটার।
এদেশ জনসংখ্যার দিক থেকে প্রায় (সতের কোটি সাতান্ন লাখ) জনসংখ্যার বসবাস।হিন্দু , মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান সহ ছোট ছোট বহু জাতিগোষ্ঠী রয়েছে।

এ দেশে বসবাসরত ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির ,ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষ মোট জনসংখ্যার প্রায় ১.১০%(১৬৫০১৫৯)জন আদিবাসী এর মধ্যে সাঁওতাল (১লক্ষ ২০বিশ হাজার ৪৫)জন।যাদেরকে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করলেও। আদিবাসীদের সম্প্রতি আনুষ্ঠানিক
ভাবে ক্ষুদ্র-নৃ গৌষ্ঠি হিসেবে নামকরণ করে পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

আদিবাসী শব্দটির উৎপত্তি :
আদিবাসী একটি সংস্কৃত হিন্দি শব্দ,যা আদি(প্রাচীনতম /প্রথম) এবং বাসী শব্দ (অধিবাসী)থেকে এসেছে,যার আক্ষরিক অর্থ প্রথম আদিবাসী বা ভূমিপুত্র।১৯৩০ এর দশকে ভারতীয় উপমহাদেশের উপজাতিয় জনগোষ্ঠীর জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক আত্মপরিচয় হিসেবে উত্থাপিত হয়। এটির মূল ইংরেজি (Indigenous people) শব্দটির ভাবানুবাদ।

আদিবাসী ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
১৯৩০ এর দশকে ছোট নাগপুর অঞ্চলে রাজনৈতিক কর্মীরা উপজাতিদের পৃথক ও সম্মিলিত পরিচয় দেওয়ার জন্য আদিবাসী শব্দটি তৈরি করেছিলেন। আদিবাসী শব্দটি দেশের উপজাতি বা (Indigenous people)বোঝাতে ব্যবহৃত হয়,যা দেশের প্রধান জনগোষ্ঠীর চেয়ে ভিন্ন সতন্ত্র ভাষা ও সংস্কৃতি ধারণ করে।
তবে আদিবাসী শব্দটি নিয়ে রয়েছে বহু ধরনের মতভেদ:

কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বাংলাদেশের প্রশংসা অতুলনীয়।

আমার সোনার বাংলা,
আমি তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ তোমার বাতাস
আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি
সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।

সাঁওতালী ভাষায় গানে গানে রয়েছে
প্রশংসার উচ্চ ধ্বনি ।

বাংলা দিশাম মজ দিশাম ।
মজ বাহাতে পেরেঃ আকাঁন ,
সাজাও আকাঁন দারি নাড়ী ,
হয়তে দালায় দালায়।

তবুও জননী জন্মভূমির কথা বলে শেষ করা যায়না।
যেখানে গাছে গাছে পাখি ডাকে
রং বেরঙের ফুল ফুটে,
মৌমাছি ফুলে ফুলে উড়ে ।
ফুল পাখিদের গানে ভোরের আলো ফুটে।
সকালের রক্তিম সূর্য পূর্ব আকাশে উদয় হয়
এবং পশ্চিম আকাশে অস্ত যায়। সূর্য উদয় থেকে অস্তমিত যাওয়া পর্যন্ত এই পৃথিবীকে নতুন আলোয় আলোকিত করে।
চির হরিৎ ক্ষেত্র হাওয়ায় দোল খায়।
চারি দিকে শুধু সবুজ আর সবুজ।

এদেশের ভূখন্ডে বসবাসরত আদিবাসী
যেমন,
সাঁওতাল,উরাঁও,মাহালী,মুন্ডা,মারমা ,চাকমা, ত্রিপুরা,বোম, হাজং ,খাসিয়া,ম্রো ,তংচঙ্গ্যা প্রভিতি এদেশে প্রায় ৫০ টির বেশি ক্ষুদ্র -নৃ গোষ্ঠী জাতিসত্তার পরিচয় পাওয়া যায়।এদের বসবাস দেশের বরেন্দ্র অঞ্চল রাজশাহী, দিনাজপুর, সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ সহ বিভিন্ন এলাকায়।

এর মধ্যে সাঁতাল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কিছু বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ভাবে তুলে ধরছি।

ধর্মীয় পরিচয়:
সাঁওতাল জাতি গৌষ্ঠি প্রাচীন কাল থেকেই এদেশের ভূখন্ডে বসবাস করে আসছে ।
এদের পদ ধূলি ও জীবন আচরণে রঞ্জিত হয়েছে এদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ।
এদের কপালের ঘাম ও শারীরিক পরিশ্রমের অংশ হয়ে গড়ে উঠেছে নগর বন্দর ও স্বাধীন রাষ্ট্র।
সাঁওতালদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও রিতি নীতি নিয়ে তৈরি হয়েছে সাঁওতাল সমাজ। সাঁওতাল জাতিগোষ্ঠী নিজেস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে এরা প্রধানত প্রাকৃতিক পূজারী এদের কোন দেব-দেবতা নেই এরা মানঝি থানে,জাহের থানে,মারাং বুরু,মড়েকু,তুরুইকু এদের নামে হৃদয়ের সকল অর্ঘ্য অঞ্জলী দেয় এবং নিজেদের সৃষ্টি কর্তা কে সন্তুষ্ট করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেন। তাছাড়াও সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকার কারণে বিভিন্ন সাঁওতাল আদিবাসী নিজেদের বিশ্বাস অনুযায়ী
খ্রীষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে তাদের আত্মিক জীবন যাপনে বলবান হয়ে উঠছে ।এতে অনেক ধরনের মতানৈক্যতা লক্ষ্য করা গেলেও নিজেস্ব ভাষা সংস্কৃতি কে আঁকড়ে ধরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে। সুখ দুঃখ একে অপরে সহভাগীতা করে একটি আদর্শ জাতি হিসেবে নিজেদের পরিচয় রাষ্ট্রের কাছে অক্ষুন্ন রেখে চলেছে যুগে যুগে।

সাঁওতালদের গোত্র পরিচয়:

সাঁওতাল একটি জাতি বা সম্প্রদায় হলেও এদের মোট বারোটি গোত্র এবং বারো টি গাড়ের চিহ্ন সমন্বয়ে পরিচয় পাওয়া যায়।
যেমন,
কিস্কু,মার্ডী/মারান্ডী,হাসদা, মুর্মু, হেমব্রম, সরেন,টুডু,বাস্কে,বেসরা,চঁড়ে,পাউরিয়া,বেদেয়া।

উপরোক্ত গোত্র সমূহের পরিচয়:

(১)কিস্কু -রাজ/বাংলায় রাজা,

কিস্কু হচ্ছে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের রাজকীয় বর্গ তারা সমাজে রাজ্য পরিচালনা দায়িত্ব ভার পালন করেন।এদের বসবাস স্থান (ছিল কঁয়ডা গাড় )নামক চিহ্ন স্থানে এর সাঁওতালী অর্থ হচ্ছে (পাংয়ড়া) (➖)যাকে বাংলা ভাষায় হাল চাষীর ব্যবহারিত হাতে থাকা হালাপান্টি হিসেবে জানা যায়।

(২)মার্ডী/মারান্ডী-কিসাঁড়/বাংলায় ধ্বনী,

মার্ডী হচ্ছে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ধনাঢ্য বা ধ্বনী ব্যক্তি। এদের হাতে ছিল রাজ্যের সকল ধরণের সম্পদ সমূহ রক্ষণশীলতার দায়িত্ব।এদের বসবাস স্থান ছিল (বাদী গাড়) নামক চিহ্ন স্থানে সাঁওতালী অর্থ হচ্ছে( উপলী সাব)যা বাংলা ভাষায় একটি(➡️ )তীর চিহ্ন নির্দেশ করে।

(৩)হাসদা-মানতান/বাংলায় মান্যবর,

হাসদা হচ্ছে সমাজের প্রধান এদের বসবাস স্থান ছিল (কুটুমপরি গাড়)নামক চিহ্ন স্থান সাঁওতালী ভাষায় (হাঁসলী)বলা হয় এবং বাংলায় হাঁসলী হচ্ছে একটি হাতের চুরির মত আকৃতি ব্যবহারিত চিনিস।

(৪)মুর্মু-নাইঁকী/ বাংলায় পুরোহিত ,

মুর্মুরা প্রধানত বিভিন্ন পার্বণ আচার অনুঠানে নাইঁকী বা পুরোহিতের কাজ করে যেমন,সোহরায়,বাপলা বা বিবাহ,ভান্ডান বা শ্রাদ্ধ,বাহা বা বসন্ত পর্ব,এরো বা চারা রোপন এগুলোতে মারাংবুরু/সৃষ্টিকর্তাকে বিভিন্ন বলি/উৎসর্গের মাধ্যমে সন্তুষ্ট করে। এদের বসবাস ছিল(চাম্পাগাড়) চিহ্ন স্থান (=জোড়া পাঁয়ড়া)এই জোড়া পাঁইড়া দুটি হালাপান্টি কে নির্দেশ করে।

(৫) হেমব্রম -দেওয়ান/বাংলায় দাতা গ্রহীতা,

হেমব্রম গোত্রের লোকেরা বিভিন্ন ধরণের লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। এদের বসবাস স্থান ছিল (খৌইরি গাড়) চিহ্ন স্থান( বাঃনাঃ ডাং)যা বাংলায় লাঠি বা বাঁশে একটি বাঁকানো কিছু বেঁধে গাছের ডালপালা ভাঙ্গতে সাহায্য কারি ব্যাবহারিক এমন জিনিস।

(৬) সরেন-শিপাহী/বাংলায় রক্ষক এবং যোদ্ধা ও বলা যায়,
তারা সবসময় দেশ,জাতিকে, ধর্ম কে বহির শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সর্বদা প্রস্তুত। এদের বসবাস স্থান ছিল (বাদী গাড়) (বিংকি) সরেনদের চিহ্ন স্থান যা কাদার ভিতরে থাকা মাছ ধরার যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

(৭)টুডু-মান্দাড়িয়া বা রশিকা‌/বাংলায় সাংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব,
এরা অনেক বিনোদন প্রিয় তাঁদের শৈল্পিক দক্ষতা সমাজ ও জাতিকে বিভিন্ন ধরনের বাদ্যযন্ত্র দ্বারা মুখরিত করে রাখে।সকল ধরনের শোক দুঃখ কষ্ট থেকে জাতিকে নতুন দিকের প্রত্যাশা জ্ঞাপন করতো।
এদের চিহ্ন স্থান ছিল(চাকতির ভিতরে ঢেরা)
এদের সংস্কৃতি মনভাব সাঁওতাল সমাজকে চমকপ্রদ করতো।

(৮)বাস্কে-কারবারিয়া/বাংলায় ব্যবসায়ী,
এরা বিভিন্ন ধরণের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় বিক্রয় কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।
এদের বসবাস স্থান ছিল (হারবালোংগাড়) চিহ্ন স্থান হিসাবে (✔️নাহেল) বাংলায় জমি চাষের যন্ত্র বা নাঙ্গল বলে।

(৯) বেসরা -খোদা/বাংলায় কারুশিল্পী,
বেসরা গোত্রের লোকেরা বিভিন্ন ধরনের চারুশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল শরীরের বিভিন্ন আর্ট বা অঙ্কন এবং পাথর কাঠ সহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসে তাদের হাতের জাদু দিয়ে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতো।

উপরোক্ত নয়টি গোত্রের ইসপষ্ট পরিচয় পাওয়া গেলেও নিম্নোক্ত বাকী তিনটি গোত্রের পরিচ অস্পষ্ট ।
যেমন,
চঁড়ে,পাউরিয়া,বেদেয়া।

(১০)চঁড়ে ………
চঁড়ে গোত্রের লোকেরা (জাঙ্গেকান্দে )গাড়ে বসবাস করতো এদের চিহ্ন স্থান হচ্ছে (🪜আড়গম) বা (মই )যা সাধারণত বাংলায় আমরা কৃষি জমির মাটি সমান করার কাজে এবং কোন উঁচু জায়গাতে উঠা নামার জন ব্যবহার করে থাকি।

(১১)পাউরিয়া…….
পাউরিয়া গোত্রের লোকেরা (বামা গাড় )নামক স্থানে বসবাস করতো চিহ্ন স্থান হিসেবে (🧉সাগুন ঠিলি)বা (পবিত্র কলস) নামক স্থানে বসবাস করতো।

(১২)বেদেয়া …….
বেদেয়া গোত্রের লোকেদের বসবাস স্থান ছিল (হলোংগাডা গাড়) এদের চিহ্ন স্থান হিসেবে বাঁশ দিয়ে তৈরি সাঁওতাল সংস্কৃতির বাদ্যযন্ত্র(🪉 হুদৌড় )নামক চিহ্ন ছিল।

সাঁওতাল সমাজ ব্যবস্থা:
সভ্যতার সূচনা লগ্ন থেকেই সাঁওতাল আদিবাসীরা সামাজিক ভাবে বসবাস করে আসছে এখন পর্যন্ত।আর এই সমাজ ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য রয়েছে বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
যেমন,
(ক)পারগানা বাঁইশি বা পরিষদ,
(খ)দিশাম মানঝি বাঁইশি বা পরিষদ,
(গ)মানঝি বাঁইশি বা পরিষদ।

(ক) পারগানা বাঁইশি এটি মূলত সাঁওতাল বিপ্লবের প্রতিনিধিত্ব করে যা ১৮৫৫ সাল থেকে১৮৫৭ সাল সাঁওতাল বিদ্রোহের দুই বছর আগে পারগানা বাঁইশি শুরু হয়। সাঁওতাল পারগানা সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রতিক্রিয়ায় (ব্রিটিশরা)১৮৫৬ সালে ইন্ডিয়ার ভাগলপুর এবং বীরভূম জেলা ভেঙ্গে সাঁওতাল পারগানা তৈরি করে এবং সাঁওতাল উপজাতিদের জন্য বিশেষ আইন প্রণয়ন করে।

(খ)দিশাম মানঝি বা পরিষদ
সাঁওতাল বসতি দেশের অভ্যন্তরীণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দাবি দাওয়া রাষ্ট্রের উর্দ্ধতন বা সরকারের কাছে তুলে ধরেন এবং সাঁওতাল সমাজের সকল ধরণের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় দিশাম মানঝি দায়িত্ব ভার পালন করে থাকেন । দিশাম মানঝিদের নির্দেশ একটি কমিটি থাকে এবং গঠন তন্ত্র অনুয়ায়ী দিশাম মানঝি পরিচালিত হয়।

(গ)মানঝি বাঁইশি বা পরিষদ
মানঝি বাঁইশি প্রধানত একটি সাঁওতাল আদিবাসী গ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে। এখানে গ্রামের সকল স্তরের জনসাধারণের জন্য রাষ্ট্রীয় সংবিধানের ন্যায় সাঁওতালদের সমাজ ব্যবস্থা রয়েছে । যদি সমাজের কোন ব্যক্তি (মানঝিদের) আইন লঙ্ঘন করে উপযুক্ত শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়।
এই মানঝি বাঁইশি বা পরিষদের একটি সতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও কাঠামো সংগঠন আকারে গ্রামের প্রাচীন জনবল নিয়োগ করে তৈরি হয়।
এদের মধ্যে থাকে (মানঝি)বা গ্রাম প্রধান।
(যোগ মানঝি)বা গ্রাম প্রধানের সহযোগী। অনেক সময় (মানঝি)বা গ্রাম প্রধানের অবর্তমানে (যোগ মানঝি )সকল দায়িত্ব নিজ হাতে পালন করেন এছাও (পারাণিক)বা (মানঝি ও যোগ মানঝির) উপ সহযোগী ওনি এই দুই জনের বিভিন্ন ধরণের কাজে একনিষ্ঠ ভাবে সামাজিক কাজে সহযোগিতা করেন। এই তিন ব্যক্তির পরেই রয়েছে (নাইঁকি)বা পুরোহিত তিনি সাঁওতালদের বিভিন্ন পার্বণ , আচার, অনুষ্ঠানে সাঁওতাল বিবাহ ধর্মীয় বিশ্বাস, অনুসারে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্য পূজা অর্চনা করেন তা ছাড়াও গ্রামের সাধারণ মানুষদের একযোগে একত্রিত করার লক্ষ্যে অক্লান্ত দায়িত্ব পালন করে চলেন( গোডিৎ)বা পিয়ন গ্রামে বা সমাজে যে কোন বিপদ,দূর্যোগ, দূর্ঘটনা, আচার অনুষ্ঠান পার্বণ সুখ দুঃখ সকল ধরণের সংবাদ (মানঝি,যোগমাঝি,পারাণিক,নাইঁকি ) এদের নির্দেশে অনুযায়ী সকল সদস্যদের সংবাদ আদান প্রদান করেন।

সাঁওতালদের পোশাক পরিচ্ছদ ও অলংকার:

সাঁওতাল জাতিসত্তার নিজেস্ব পোশাক পরিচ্ছদ রয়েছে যদিওবা আদিতে সাঁওতাল পুরুষরা (ভাগোয়া)বা নেংটি, পাঞ্চি ধুতি ব্যবহার করতেন এবং শরীরে পড়তেন গ্যাঞ্জি তাছাও ছিল মাথায় (দাঁড়হি)বা পাগড়ি হিসেবে (পাটকাঁ)এটি গামছা আকৃতি যেটা শির পাঞ্চিং হিসেবে পরিচিত। নিজেদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিশেষ ধরণের অনুষ্ঠান পার্বণ এমন সময় মাথার পাগড়িতে ব্যবহার করতেন নানা ধরণের পাখির পালক(সিমদাঃ বাহা) ।পায়ে থাকতো নৃত্য পরিবেশন করার জন্য পায়ের নূপুর বা(ঝুনকা,জাঁঙ্গা পাঁইড়ি )হাতে থাকতো (শিঁকা)সহ বিভিন্ন ধরনের সাজসজ্জা।

সাঁওতালী মহিলাদের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সাজসজ্জা পোশাক পরিচ্ছদ বিশেষ করে মহিলারা ব্যবহার করেন রংবেরঙের (পাঁঞ্চি শাড়ি) ,ব্লাউজ, পেটিকোট সহ পুতলা বাঁন্দে /পরা গো-গ । মাথায় নানা ধরনের ফুলের খোঁপা,চুলে ব্যবহার করতেন (পাটিসোঁলোক) (ঠেকা পাগরা)কানের দুল,স্বর্ণ ও রৌপ্যের মালা এবং (তোয়া মালা)যা এক ধরণের পুঁতি দিয়ে তৈরি সাদা রঙের দেখতে, তাছাড়াও (শিঁকা,বাঁজু ,পাঁইড়ি ,তোড়া) কমরে ব্যবহার করতেন বিছা এরকম নাম না জানা বিভিন্ন অলংকার।সে সময়টিতে জুতার ব্যবহার ছিল না বলেই চলে ।
তবে সাবান বা প্রসাধনী হিসেবে ব্যবহার করতেন (নাড়কা হাসা)যা এক ধরণের মাটি এটি চুল ও শরীরের জন্য সাবানের বিকল্প হিসেবে অত্যান্ত কার্যকারি।
এভাবেই সাঁওতালরা নিজেদের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করতেন।

সাঁওতালদের খাদ্য:

সাঁওতাল জাতিসত্তা যেমনটি কৃষি নির্ভরশীল ঠিক তেমনি প্রাকৃতি পূজারী। তাই প্রাকৃতিক সম্পদ থেকেই দৈনন্দিন জীবনে জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকেই খাদ্য দ্রব্য সরবরাহ করতেন।
চাষ করতেন (ভাদাই হুড়ু)বা ধান এখান থেকেই ভাতের চাহিদা মেটাতো তাছাড়াও প্রচুর পরিমাণে বন জঙ্গল থাকার কারণে জঙ্গল থেকে বিভিন্ন ধরনের ফল মূল বন আলু,সাং ,ডামরু,ছিল প্রিয় খাবার।
মাংস বা আমিষ জাতীয় খাবার হিসেবে জঙ্গল থেকে শিকার করতো বেজি,রুন্ডা/বাঁড়ো, কুলাই/খোরগোশ,হরো / কচ্ছপ,বামবি/কুঁচিয়া,গুডু/ ইঁদুর ও খালবিল থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন ধরনের মাছ। এই সকল খাবার ছিল দৈনন্দিন জীবনের খাদ্য তালিকায় এবং এগুলো খেয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতো এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিল।

সাঁওতালী বারোটি মাংসের নাম বাংলা অর্থ সহ:

(১)মাঘ বোঙ্গা-মাঘ মাস
(২) ফাগুন বোঙ্গা-ফ্লাগুন মাস
(৩)চৌত বোঙ্গা- চৌত্র মাস
(৪)বায়সাক বোঙ্গা- বৈশাখ মাস
(৫)ঝেঁট বোঙ্গা-জোষ্ঠ মাস
(৬)আষাড় বোঙ্গ- আষাঢ় মাস
(৭)সান বোঙ্গা- শ্রাবণ মাস
(৮)ভাদর বোঙ্গা-ভাদ্র মাস
(৯)দাশাঁয় বোঙ্গা- আশ্বিন মাস
(১০)সোহরায় বোঙ্গা- কার্তিক মাস
(১১)আগহাঁড় বোঙ্গা- অগ্রহায়ণ মাস
(১২)পুষ বোঙ্গা-পৌষ মাস

সাঁওতালী ছয়টি ঋতুর নাম বাংলা অর্থ সহ:

(১)সিতুং (Situng / Kharsa)-গ্রীষ্মকাল
(২)জাপুদ (Japud /Jaru) -বর্ষাকাল
(৩)সহরায় (Sohrai)-শরৎকাল
(৪)বাঘাও (Baghao)-হেমন্তকাল
(৫)রাবাং/জাড় (Jar)-শীতকাল
(৬) বাহা (Baha)-বসন্তকাল

সাঁওতালী সাত দিনের নাম বাংলা অর্থ সহ:

(১)ঞুহুম মাহা-শনিবার
(২)সিঁঙ্গি মাহা-রবিবার
(৩)অতে মাহা- সোমবার
(৪)বালে মাহা -মঙ্গলবার
(৫)সাগুন মাহা-বুধবার
(৬)সারদি মাহা -বৃহস্পতি বার
(৭)জারুম মাহা-শুক্রবার

সাঁওতালদের প্রধান উৎসব বা পার্বণ সমূহ:

সাঁওতাল জাতিদেরও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মতোই বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব আচার ও সংস্কৃতি রয়েছে।এরা প্রধানত প্রকৃতি পূজারী হোওয়ায় প্রকৃতির নিয়মতান্ত্রিক ভাবে নিজেস্ব উৎসবগুলো হৃদয়ে ধারণ ও পালন করে থাকে এর মধ্যে ঐতিহ্যবাহী উৎসব গুলো হচ্ছে বাহা উৎসব,সোহরায় উৎসব,নব্বান উৎসব, এরো উৎসব সহ আরো অনেক উৎসব রয়েছে।

নিম্নে সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী সোহরায় উৎসব সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান উৎসব হলো (সোহরায়)। এটি মূলত শস্য কাটার পর পালিত এটি সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব, যা গবাদি পশুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং ফসল প্রাকৃতিক দূর্যোগের ও পোঁকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য উদযাপন করা হয়। সাধারণত পৌষ বা কার্তিক মাসে ইংরেজি (জানুয়ারি মাসে) ধান কাটার পর পরই এই উৎসব পালিত হয়।এসময় গ্রামের সাঁওতাল নারীরা দেয়াল চিত্র অঙ্কন করেন। এই চিত্র গুলোতে মূলত ফুল, লতা-পাতা এবং পশুপাখির নকশা থাকে।
সোহরায় উৎসবের প্রতিটি দিনেই মাদল(তুমদা) নাগরা(টামাক) ও বাঁশির তালে তালে দলবদ্ধ হয়ে সোহরায় নাচ (এনেৎ)করে।
সোহরায় উৎসবে সবাই নতুন পোশাক পরে এবং একে অপরের বাড়িতে গিয়ে কুশল বিনিময় করে ঘটে যাওয়া সকল দুঃখ কষ্ট হতাশা কে ঝেড়ে ফেলে নতুন পথের আলোর দিশায় ছুটে।

সোহরায় উৎসবের প্রধান দিকগুলো হলো:

সোহরায় সাধারণত পাঁচ দিন ধরে চলে। প্রতিটি দিনের আলাদা আলাদা নাম ও নির্দিষ্ট আচার বা নিয়মাবলী রয়েছে:

প্রথম দিন (উম/গোসল বা পবিত্র)
এটি প্রস্তুতির দিন। এই দিনে গ্রামের সকল শ্রেণীর মানুষ স্নান করে পবিত্র হয় এবং সাঁওতাল বিশ্বাস অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তকে (জাহের থানে) গিয়ে জাহের এরা, মড়েকু,তুরুইকু) এর কাছে পূজা অর্চনা করে।
বিগত একটি বছর সুষ্ঠ সুন্দর ফসল ফলাদি ও দূর্যোগ মুক্ত সুন্দর জীবন ধারণের সুযোগ দেওয়ার জন্য।
জাহের এরা মড়েকু তুরুইকু দের ধন্যবাদ জানানো হয়। এবং নতুন বছরের জন্য প্রার্থনা রাখা হয়।

দ্বিতীয় দিন (দাকা)বা ভাত

এটি ভোজের দিন। গ্রামের প্রতিটি পরিবার থেকে গ্রামের পার্শ্বে একটি নির্দিষ্ট ফাঁকা যায়গায় সকলে সারিবদ্ধভাবে চুলা তৈরি করে।(নাইঁকী )বা গ্রামের পুরোহিত দিয়ে মুরগী বা কবুতর বলি উৎসর্গ করে এবং নতুন চালের অন্ন /ভাত এবং উৎসর্গ কৃত মুরগী বা কবুতর দিয়ে রান্না সম্পূর্ণ করে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা হয় এবং আত্মীয়-স্বজনকে ও প্রতিবেশীদের মাঝে প্রস্তুত কৃত (দাকা)অন্ন বা ভাত সহভাগীতা করা হয় হয়।

তৃতীয় দিন (খুন্টাউ)

খুন্টাউ এই দিনটি গবাদি পশুর জন্য উৎসর্গ করা হয়। গরু ও মহিষের শিংয়ে তেল-সিন্দুর মাখিয়ে সেগুলোকে সাজানো হয় এবং খুঁটির সাথে বেঁধে এক ধরণের ভক্তি মূল্যক ( অড়হেঁ সিরিং ) বা গান পরিবেশন করা হয় এবং গবাদি পশুর গলায় তৈলপিঠা বেধে,হুড়ু বা ধান, দুর্বা দিয়ে ভক্তি প্রদর্শন করা হয়।

চতুর্থ দিন (জালি বা গাদয়)

এই দিনে গ্রামের যুবক-যুবতীরা বাড়ি বাড়ি যায় এবং প্রতিটি পরিবারে ঢুকে (সোহরায় সিরিং) বা গান( সোহরায় এনেৎ) বা নাচের তালে তালে চাউল বা টাকা বিভিন্ন ধরনের উপহার সংগ্রহ করে সকলে পুণরায় প্রীতি ভোজের আয়োজন করে।

পঞ্চম দিন (সাকরাত)বা শিকার করা

সাকরাত হচ্ছে উৎসবের শেষ দিন। এই দিনে গ্রামের যুবক, বয়সকো কী ছেলেরা নিয়ত করে শিকার করতে বের হয় এবং গ্রামের শেষ প্রান্তে যেখান থেকে বিভিন্ন দিকে রাস্তা বিভক্ত হয়েছে সে জায়গাতে সকলে জমায়েত হয়ে আগুন জ্বালিয়ে একটি চিহ্ন রেখে শিকার করতে এগিয়ে যায় যাতে করে যদি কেউ পিছনে পড়ে সেই আগুন জ্বালানো স্থানটি দেখে নিশ্চিত হতে পারে । যতক্ষণ শিকারে যাওয়া লোকজন বাড়িতে না ফিরে তোতোক্ষণ গ্রামের সকল মহিলারা প্রার্থনা করে যাতে কেউ বিপদের কবলে না পড়ে এবং শিকার থেকে ফেরা হলে পর শিকারিদের নিজ নিজ ঘরে পা ধুয়ে বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এবং যে সকল যন্তু শিকার করে আনে তা নিজেদের মাঝে ভাগ বাটোয়ারা করার পর মাঠে কলা গাছ পুঁতে (নাইঁকী )বা পুরোহিত তিনটি রুটি কলা গাছের মাথায় রেখে পূজা অর্চনা করেন এবং সকল শিকারীরা তীর ছোঁড়ার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং যে শিকারি কলাগাছে তীর বিদ্ধ করতে পারে সবাই মিলে তাকে কোলে নিয়ে উল্লাস করে।তারপর ঐ কলাগাছ যতজন শিকারি থাকে তাদের আগামী বছরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য খন্ড খন্ড করে প্রত্যেকের বাড়ির চালে স্মৃতি হিসেবে নিত্য করতে করতে রেখে আসা হয় ।সবশেষে আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমে বিদায় জানানো হয় ঐতিহ্যবাহী সোহরায় উৎসব।

সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী বাহা উৎসব:

সাঁওতালদের অন্যতম বসন্তকালীন উৎসব বাহা । (বাহা )শব্দের অর্থ হচ্ছে ফুল বসন্ত ঋতুতে ফ্লাগুন ও চৈত্র মাসে এই উৎসব পালন করা হয় ।যখন গাছে গাছে দেখা মেলে (সারজম বাহা) বা শাল ফুল সাঁওতালরা তাঁদের সৃষ্টি কর্তা মারাং বুরু জাহের আয়ো, মড়েকু, তুরুইকু দের উদ্দেশ্যে ফুল অর্পণ করে জাহের থানে ও প্রকৃতি পূজা সম্পন্ন করে।
বাহা(ফুল)প্রকৃতিকে নতুন রুপে নতুন সাজে সু সুজ্জিত করে এ সময় সাঁওতাল গ্রাম হয়ে উঠে উৎসব মূখর নাচে গানে (এনেঞ,সিরিং) এর মাধ্যমে আনন্দ উল্লাসে ভরপুর। সকলের শরীরে দেখা যায় ঐতিহ্যবাহী নতুন পোশাক।
এই উৎসবের মাধ্যমে নতুন বছর, (বাহা)ফুল,(যো) বা ফল ও ফসলের স্বাগত জানিয়ে প্রকৃতির সুরক্ষা ও আশির্বাদ কামনা করা হয়।এই দিনে গ্রামের যুবক যুবতী একসাথে নাচে গানে ও হাতে হাতে বা মাথায় চুলের ভাঁজে ও খোঁপায় ফুল ব্যবহার করে যুবক যুবতীরা মাদল(তুমদাঃ)নাগরা(টামাক) বাঁশি (তৈরিয়া)বাজিয়ে একযোগে বাহা নাচ গানের মাধ্যমে আনন্দ করে।
গ্রামের (নাইঁকি)বা পুরোহিত (গোডিৎ)বা পিয়ন
নতুন ডালায় ফুল (বাহা)সাজিয়ে কলস ভরা পানি নিয়ে প্রতিটি পরিবারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে পা ধুয়ে বাড়ির মহিলাদের গায়ে জল ছিটিয়ে গোছায় নতুন ফুল দেয় এবং সাঁওতাল প্রণাম (ডবো,যোহার)করে যাতে করে সাঁওতাল বাহা উৎসবের মাধ্যমে নিজেদের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি

Design & Development BY : ThemeNeed.com